শনিবার | ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

অন্যের শরীরের রক্ত নিয়ে বেঁচে আছে রোমানা আক্তার 

অন্যের শরীরের রক্ত নিয়ে বেঁচে আছে রোমানা আক্তার 
জন্মের চার মাস পর থ্যালাসামিয়া রোগে আক্রান্ত দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেল খুরিয়া গ্রামের রমজান আলীর ১১ বছর বয়সী মেয়ে রোমানা আক্তার। প্রতি মাসে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হয় রোমানার শরীরে। টাকা অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন হতদরিদ্র বাবা। বর্তমান ঢাকা পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে রোমানা। ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করলে সে সুস্থ হয়ে যাবে, তার অপরেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।
বাবা রমজান আলী পেশায়     একজন অটোচালক। অন্যের অটোগাড়ি ভাড়ায় চলান তিনি। সংসারে দুই ছেলে আর এক মেয়ে। গাড়ি ভাড়া দিয়ে সারাদিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা উপার্জন করেন সে। সামান্য আয়ে ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চলে কোন রকম।
জন্ম থেকে থ্যালাসামিয়া রোগে ভুগছেন তাদের একমাত্র কন্য রোমানা। প্রতি মাসে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হয় রোমানাকে। জন্মের পর থেকে বাবা রমজান আলীর শরীর থেকে প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে রক্ত দিয়ে আসছেন। বিগত ৫ থেকে ৬ বছর যাবৎ স্থানীয়  বিনা মুল্যে রক্তদান কেন্দ্র শিবির থেকে রক্ত পেয়ে যাচ্ছে রোমানা। রোমানার শরীরে রক্ত তৈরি হয় না। বহু চিকিৎসা করেও কোন লাভ হয়নি মেয়েটির। অভাবের মাঝেও মেয়েকে ভাল করার জন্য অর্থসম্পদ যা ছিলো তা আজ সবি শেষ করে ফেলেছেন রমজান আলী। দিনে দিনে বড় হয়ে উঠছে মেয়ে, আর ততই চিন্তার বেড়ে যাচ্ছে মেয়েকে নিয়ে তাদের। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মেয়ের চিকিৎসা করা হয়েছে, কিন্তু টাকার অভাবে ভাল চিকিৎসা করতে পেড়ে উঠেনি বাবা-মা। আজ রমজান আলী  নিঃস্ব, তবু হাল ছাড়েনি মেয়েকে সুস্থ করার জন্য। বর্তমান মেয়েকে নিয়ে ঢাকা পিজি হাসপাতালে অবস্থান করছেন তিনি। ডাক্তার জানিয়েছেন মেয়েকে ভাল করতে হলে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন করতে লাগবে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। এতোগুলা টাকা আজ কোথায় পাবে রমজান আলী।  তাই একমাত্র কন্যাকে বাচাতে দেশবাসীর নিকট সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যদি কোন হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসেন তার মেয়েকে আর্থিক সহযোগিতা করতে। সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের সাহায্য পেলে ফিরে পাবে রোমানা তার স্বাভাবিক জীবন।
রোমানার বাবা রমজান আলী বলেন, আমি অসহায় গরীব মানুষ। জীবনে যা কামাই করেছি, তা মেয়েকে ভাল করার জন্য শেষ করে ফেলেছি। আজ আমার কোন সম্পদ নেই যা দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করবো। সারাদিন ভাড়ায় অটো চালিয়ে যা পাই তাই দিয়ে সংসার চলে। এতোগুলা টাকা কোথায় পাবো। তাই আমি সমাজের দয়ালু বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য চাইছি। দয়া করে আপনারা আমার অসহায় মেয়েটির পাশে দাঁড়ান।
মা হুসনেয়ারা বেগম বলেন, জন্মের চার মাস বয়স থেকে আমার মেয়ের শরীরে রক্ত দিতে হয়। রক্ত না দিলে তাকে বেঁচে রাখা সম্ভব হয় না। আমার স্বামীসহ অন্যের দেওয়া রক্ত দিয়ে এখনও বেঁচে আছে আমার মেয়ে। এভাবে আর কতদিন মানুষের শরীরের রক্ত দিয়ে মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখবো। পিজি হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন  আমার মেয়ের অপারেশন করলে, আর রক্ত দিতে হবে না। সুস্থ মানুষের মতো স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে পারবে সে। চিকিৎসা করতে বহু টাকার দরকার। কিন্তু আমার স্বামী একজন স্বল্প আয়ের মানুষ, কিভাবে এতোগুলো টাকা জোগার করবে? আমার একটি মাত্র মেয়ে, যদি কোন দেশবাসী আমার অসহায় মেয়েটা বাঁচানোর চেষ্টা করে তাহলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।
আমার মেয়ে রোমানাকে সাহায্য করতে চাইলে,
বিকাশ নাম্বার= ০১৭৮১৮১৫৯২৩
কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক হিসাব নাম্বার= ৩৫২৬৩১
Facebook Comments Box


Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!