শনিবার | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

উৎসব ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবি শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির

নিজস্ব প্রতিনিধি, প্রতিদিনের কুষ্টিয়া

উৎসব ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবি শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির

শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের জন্য আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দের দাবি জনবল কাঠামো ২০২১ এর ১১.৭ ধারার (ঙ) এর উপধারা মোতাবেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর আলোকে স্কেল ভিত্তিক শতভাগ ঈদ বোনাস গত ঈদ-উল-ফিতর এর পূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে প্রদান করার কথা থাকলেও সরকার ঈদ বোনাস প্রদান করেনি। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০টি সংগঠন সম্মিলিতভাবে ‘‘শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটি’’ গঠন পূর্বক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নেতৃবৃন্দ ঈদ-উল-ফিতর এর নামাজ আদায়সহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সরকার যেন আগামী ঈদ-উল আযহার পূর্বে শতভাগ বোনাস প্রদান করেন। তাছাড়া নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহবান জানান সরকার যেন তার চলমান মেয়াদেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করেন এবং ২০২১-২০২২ এর জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পূর্বক ঈদ-উল-আযহার পূর্বে শতভাগ বোনাস প্রদান করেন। শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক জসিম উদ্দিন আহমেদ নেতৃবৃন্দের পক্ষে তার বক্তব্যে বলেন, আইএলও এবং ইউনেস্কোর পরামর্শ হলো বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬% অর্থ বরাদ্দ রাখা উচিত এবং বাজেটের মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ অর্থ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করা উচিত। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ২% এবং মোট ব্যয়ের ১১.৬৯% এর বেশি অর্থ খরচ করেনি।


 

সরকার যদি জিডিপির ৪% এবং মোট ব্যয়ের ১৫% টাকা আগামী ০৩ টি বাজেটে শিক্ষা খাতে খরচ করে তাহলে অনায়াসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করতে পারে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ শিক্ষার ৯৭% দায়িত্ব পালন করলেও তারা বাড়ি ভাড়া পাচ্ছে ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছে ৫০০ টাকা, গত ১৭ বছর ধরে শিক্ষকগণ ঈদ বোনাস পাচ্ছে ২৫% এবং কর্মচারীগণ ঈদ বোনাস পাচ্ছে ৫০% ; নেই তাদের বদলি , শিক্ষা কল্যাণ ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি এবং নেই স্থায়ী অবসর-কল্যাণ ভাতার ব্যবস্থা। যেহেতু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর আওতায় বেতনসহ বার্ষিক ৫% প্রবৃদ্ধি, ২০% বৈশাখী ভাতা পায় সেহেতু শতভাগ উৎসব ভাতা প্রাপ্তি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাজাতীয়করণ শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকারের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি সরকারের সামনে আসলে আর্থিক সংকটের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এমতাবস্থায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ শিক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদনপ‚র্বক জানিয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা নিলে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান বেতন কাঠামোর পরিবর্তন করলে অনায়াসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ সম্ভব । এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণে অর্থ সংস্থানের ক্ষেত্রে শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির প্রস্তাবনা ঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় যেমন ঃ রিজার্ভ ফান্ড, সাধারণ তহবিল, প্রতিষ্ঠানের পুকুর, জমি ও দোকান ভাড়া এর টাকা সরকারি কোষাগারে যদি জমা নেয়া হয়; বর্তমানে সরকারি স্কুলে ৩য়-৫ম শ্রেণির বেতন ৮ টাকার স্থলে ২০ টাকা করা হয়, ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণির বেতন ১২ টাকার স্থলে ৩০ টাকা করা হয়, ৯ম-১০ম শ্রেণির বেতন ১৮ টাকার স্থলে ৪০ টাকা করা হয় এবং কলেজ শাখার শিক্ষার্থীদের বেতন ২৫ টাকার স্থলে ৫০ টাকা করা হয়, তবেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা সম্ভব। তারপরও সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা কমিটি যদি মনে করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করতে আরো অর্থের প্রয়োজন, তাহলে আমাদের প্রস্তাব হলো-জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় সেশন ফি খাতে শিক্ষার্থী প্রতি যদি ৫০০ টাকা নেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠানের আভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং পাবলিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী প্রতি পরীক্ষার ফি ৫০ টাকা বা তার চেয়ে একটু বেশি অর্থ নেয়া হয় । এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উপরোক্ত প্রস্তাবনা অনুযায়ী ৩৯০৯২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১,৬২,৬৩,৭২৪ জন শিক্ষার্থীর নিকট থেকে বছরে কমপক্ষে ২৫৭৪,০২,৯৯,৪০০/ (দুই হাজার পাঁচশত চুয়াত্তর কোটি দুই লক্ষ নিরানব্বই হাজার চারশত) টাকা আয় হতে পারে বলে আমরা হিসাব বের করেছি এবং ইতোমধ্যে হিসাব বিবরণী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকেও প্রদান করেছি। উক্ত টাকা সরকার যদি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন খাতে খরচ করে তাহলে এ খাতে সরকারকে কোন ভর্তুকি দিতে হবে না।


বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে পারে। আমরা মনেপ্রাণে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন ১) আগামী ঈদ-উল-আযহার প‚র্বে শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতিয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধসহ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ সুনিশ্চিত করেন। ২) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণসহ অনার্স-মাষ্টার্স কলেজের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিশ্চিত করেন। ৩) কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেন। তবেই এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অগ্রগতি দ্রæত এগিয়ে যাবে এবং মেধাবীরা শিক্ষকতায় আকৃষ্ট হবে। ফলশ্রæতিতে দ্রæত এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ, লাখোকুটি শিক্ষার্থী একই মানের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করবে, অভিভাবকগণের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং নিশ্চিত হবে আলোকিত শিক্ষা। সংবাদ সম্মেলনে ১০টি সংগঠনের কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শতভাগ উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী অনুষ্ঠানে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে¡ও ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করেছ

Facebook Comments Box


Posted ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!