বৃহস্পতিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

কুষ্টিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

কুষ্টিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত


 

বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি ধ্রুবতারা, তার কবিতা গান, উপন্যাস ও গল্পে বাঙালি জেনেছে বীরত্বের ভাষা, দ্রোহের মন্ত্র। ২৫ মে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মধ্যে দিয়ে পালিত হলো।

তরিকতে আহলে বাইত বাংলাদেশ (কেন্দ্রীয় সংসদ) এর আয়োজনে এবং কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া দবিরউদ্দিন মোল্লার রেলগেটের পাশে ডা.সামছুল আলমের সদর আশ্রমের সহযোগিতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বিদ্রোহীর শতবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা.সামছুল আলম।


১৯২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে লেখা হয়েছিল বিদ্রোহী কবিতা। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা আন্দোলনের যে ভাবনা-প্লাবন সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে প্রবলভাবে ইন্ধন জোগায় কাজী নজরুল ইসলামের এ কবিতা। আলোচনা সভায় সদর আশ্রমের কর্মকর্তাবৃন্দ নজরুলের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকপাত করেন। জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ ব্রিটিশ ভারতের বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মা জাহেদা খাতুন।


বাংলা কবিতায় নজরুলের আবির্ভাব একেবারেই উল্কার মতো। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভূত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙ্গিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন তা নিয়ে এখনো গবেষণা হতে পারে। কোন সঞ্জীবনি মন্ত্রে তিনি উচ্চকন্ঠে বলতে পারেন ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’ অথবা মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত/আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না/ অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণ বন্ধ হয়নি কিংবা উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোলও কখনো থামেনি। আর সেই কারণেও নজরুল আমাদের কাছে এখনো প্রাসঙ্গিক। আসলে বিদ্রোহী কবি যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমনি এই প্রেমিক কবি ছিলেন রোমান্টিক। রোমান্টিকতার আতিশয্য ও অভিমানে ভরা তার অনেক গান গত শতকের অনেকটা সময় ধরে বাঙ্গালীর হৃদয় রাজ্যে বিচরণ করছে।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স-পরিবারে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।

নজরুলের প্রেম, বিয়ে বিচ্ছেদ, গ্রেফতার, সমাবেশ এবং কাব্য ও সংস্কৃতিচর্চাসহ বহু ঘটনার নীরব সাক্ষী রয়েছে কুমিল্লা শহরে। কুমিল্লা জেলার দৌলতপুরে সৈয়দা খাতুন নামে এক কিশোরীকে তিনি ভালোবেসেছিলেন। নাম রেখেছিলেন ‘নার্গিস’। ১৯২১ সালে নির্ধারিত বিয়ের দিনটিতেই তাদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। নার্গিসকে নিয়ে তিনি লিখেন ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে’ অথবা ‘আজও মধুরও বাঁশরি বাজে।’ নজরুলের স্ত্রী প্রমীলার বাড়িও কুমিল্লাতে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!