বৃহস্পতিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

দৌলতপুরে সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এর নামে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।

দৌলতপুরে সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এর নামে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।

দৌলতপুরে সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এর নামে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।


নিজ অপকর্মে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ফজলুল হক পরাজিত হয়েছেন। আজ রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করেছেন ফিলিপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা।বিকেল ৩টার দিকে ফিলিপনগরের দারোগার মোড়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি হয়। এ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফিলিপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হায়দার আলী।

হায়দার আলী বলেন, সম্প্রতি কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহানসহ স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফজলুল হক। এ–সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও দেন তিনি। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নেতা নঈমুদ্দিন সেন্টুর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ও ফ্ল্যাট নিয়ে ফজলুল হককে হারিয়েছেন সাংসদ ও ইউনিয়নের অন্য নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্ন নেতা ফজলুল হক। তিনি গত পাঁচ বছর ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে নানা অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করার কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর থেকে সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেন। এ কারণেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়েও তাঁর ভরাডুবি হয়েছে। নিজের অপকর্ম ও অযোগ্যতা ঢাকতে তিনি পরিকল্পিতভাবে সাংসদসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিথ্যাচার করছেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সাদিকুজ্জামান খান সুমন ও সরদার আতিকুর রহমান আতিক সহ ফিলিপনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা বলেন ফজলুল হক কবিরাজ স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ সহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ তুলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তারা আরো বলেন ফজলুল হক কবিরাজ যে মিথ্যা অভিযোগ করছেন তা শুধু স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এবং স্থানীয় নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধেই নয় বরং দলের বিরুদ্ধেও তার অবস্থান নেয়া হচ্ছে এবং দলকেও বিতর্কের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন তারা। তারা বলেন যেখানে দেশব্যাপী জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিচ্ছেন অথচ সেই একই সময়ে তিনি কোন একটি চক্রের দাবার গুলি হিসেবে ব্যবহার হয়ে সেই নির্বাচনকে তিনি বিতর্কের মুখে ফেলার চেষ্টা করছে।ফজলুল হক কবিরাজের বিভিন্ন অভিযোগগুলো যুক্তিসহ খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এই সংবাদ সম্মেলনে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

১. ফিলিপনগর ইউনিয়নের কোন ভোট সেন্টারে কোন ভোটি মেরে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং প্রশাসন অবাধ ও
সুষ্ঠ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করেছে যার সাক্ষী ফিলিপনগর ইউনিয়নবাসী। এখানে বি এন পি সমর্থিত প্রার্থী ছিলো
সিরাজুল ইসলাম।


২. ১০০ ভাগ মিথ্যাচার। নিজের দুর্নীতি, ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা ঢাকতে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
৩. শামসুল আলম কোন মার্ডার মামলার আসামী ছিলেন না। শামসুল আলম ১৯৯৬ সালের ইউপি নির্বাচনের পর
আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জননেতা আফাজ উদ্দিন আহমেদ এর
মাধ্যমে ফিলিপনগর হাই স্কুল মাঠে প্রকাশ্য জনসভায় প্রয়াত জাসদ নেতা ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অবস্থান
গ্রহণ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
৪ আসমত আলী মাস্টার সাহেবরা সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন রিমন ও রেজাউল হক চৌধুরীর সাথে
রাজনীতি করেন।

৫. বুয়েটের সাবেক ছাত্র ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াস হোসেন প্রত্যক্ষভাবে নৌকার পক্ষে ভোট করেছেন। তিনি
ভোটের দিনের অনেক পূর্ব থেকেই ফজলুল হক কবিরাজকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন।
৬. নাসির উদ্দিন ও মাহবুব মাস্টার তারা প্রত্যক্ষভাবে নৌকার পক্ষে ভোটি করেছে। যার প্রমাণ ফেসবুক
ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারণকৃত আছে।
৮. সোহেল রানা ওরশ কবিরাজ ও ফজলুল হক এক ই বংশের, চাচাতো ভাই। ঐ বংশ থেকে চার জন চেয়ারম্যান
প্রার্থী ছিলেন। ফজলুল হক চেয়ারম্যান মনোনয়ন লাভের পর দুই জন নেতা – মামুন কবিরাজ – জেলা
কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ওয়াসিম কবিরাজ – থানা যুবলীগের
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নৌকার পক্ষে কাজ করলেও ওরশ কবিরাজ কোনভাবেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতার মদদে নৌকার ভরাডুবি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র
নির্বাচন করেন। ওরশ কবিরাজ কোনদিন ই মাননীয় সংসদ সদস্যের বলয়ে রাজনীতি করেন না যা দৌলতপুর
উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ খুব ভালো ভাবে জানে। ওরশ কবিরাজ ও ফজলুল হক কবিরাজের ভোট যোগ
করলেই বুঝতে পারবেন নৌকা কেন হেরেছে।
১০. এটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার। ভোট অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয়েছে ৬ নং ওয়ার্ডের জনগণ ও
ফিলিপনগর ইউনিয়নবাসী জানে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!