সোমবার | ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

বৃদ্ধি পেয়েছে হিলিতে সরিষার চাষ

বৃদ্ধি পেয়েছে হিলিতে সরিষার চাষ
গত বছরের চেয়ে এবছর দিনাজপুরে বৃদ্ধি পেয়েছে সরিষার চাষ। আবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তর। চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে জেলায়।
সরিষার মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কৃষকের হলুদ স্বপ্ন। সরিষার হলুদ ফুলের সুগন্ধিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে এলাকাবাসী সহ মৌমাছিরা। ব্যস্ত সময় পার করছে মধু সংগ্রহ মৌমাছিরা। সৌন্দর্য পিয়াসুরা উপভোগ করেছেন সরিষার ফুলের রুপ আবার অনেকেই ছবি তুলছেন শস্যক্ষেতে।
অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে শুরু করে কৃষকেরা সরিষার চাষ। অল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভ সরিষা চাষে। আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে বীজ বপন করে আমন চাষীরা। বীজ লাগানোর ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় সরিষা ঘরে তুলে কৃষকরা। ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা।প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
বিঘাপ্রতি ১ কেজি সরিষার বীজ বপন করে সরিষা চাষীরা। প্রথমে গোবর, ১০ কেজি ডেপ,১০ কেজি পটাস আর ১০ কেজি ইউরিয়া সার দিয়ে জমি তৈরি করে কৃষকেরা। আবার অনেক চাষীরা বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া দিয়ে থাকেন, যাতে করে পরবর্তীতে বোরো চাষে তাদের আর ধানে ইউরিয়া দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এতে করে সরিষার ফলন ভাল হবে এবং ইরি চাষে আগাম জমি তৈরি হয়ে যাবে।
হিলি জালালপুরের সরিষা চাষী আকরাম হোসেন বলেন, গত বছর আমি ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছিলাম। এবছর আমন ধান কেটে, দেড় বিঘাতে সরিষার চাষ করেছি। আল্লাহ দিলে এবার সরিষার ভাল ফলন পাবো।
বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, প্রতি বছর আমি ৩ থেকে ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে থাকি। নিজের চাহিদা মেটাতেই আমার সরিষার চাষ। বাহিরের কোন তেল আমার পরিবার ব্যবহার করে না। নিজে সরিষা চাষ করে তা মিলে ভাঙি এবং বাঁকিটা বিক্রি করে দেয়। সরিষা থেকে যে খৈল পাই, তা বাড়ির গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। এবছর সরিষার ভাল ফলন দেখতে পাচ্ছি। আশা করছি, অন্য বছরের চেয়ে এবছর সরিষার ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান, উপজেলায় এইবার ৮২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছে কৃষকরা। গেলো বছর ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিলো। প্রতি বছরের মতো এইবারও আমরা সরিষা চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করেছি। এবছর ৩৮০ জন কৃষককে ১ কেজি সরিষার বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাস সার দেওয়া হয়েছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিক্সন চন্দ্র পাল জানান, ১০১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে উপজেলায়। বিনামূল্যে ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বীজ-সার বিতরণ করেছি।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদ ইকবাল জানান, গত বছর জেলায় ১২ হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিলো। এবছর জেলার ১৩ টি উপজেলায় কৃষকরা ১৩ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করা হয়েছে সরিষা চাষীদের মধ্যে। কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে আসছেন প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অন্য বছরের চেয়ে এবছর সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Facebook Comments Box


Posted ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২০

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!