মঙ্গলবার | ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

রাতের আঁধারে স্কুল ঘর বিক্রির টাকা বিকাশে নিলেন এটিও

এনামুল হক ইমন কুমারখালী প্রতিনিধি

রাতের আঁধারে স্কুল ঘর বিক্রির টাকা বিকাশে নিলেন এটিও

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নে শানপুকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সহকারী শিক্ষকের দাবী বিক্রির সমস্ত টাকা বিকাশের মাধ্যমে দিয়েছেন এটিও ম্যাডামকে। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দরখাস্ত দিয়েছেন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।


স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৬ মার্চ) রাতের আঁধারে সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও তার লোকজন প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভবন মাত্র ১৪ হাজার টাকায় শানপুকুড়িয়া গ্রামের মৃত মোবারকের ছেলে বাচ্চুর কাছে বিক্রি করে দেন। বাচ্চু তার লোকজন দিয়ে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের ইট, বাঁশ, সিমেন্টের খুঁটি ও ছাউনির টিন ভেঙে বাড়িতে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, এটিও স্যারের নির্দেশে ১৪ হাজার টাকায় ঘর বিক্রি করে ১৩ হাজারর ৯০০ টাকা এটিও স্যারকে দিয়েছি।বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি বিষয়টি জানে। নিজের ভুল স্বীকার করে মাপ চেয়ে তিনি আরো বলেন, ঝামেলা হওয়ায় এটিও স্যার পুনরায় টাকা বিকাশে ফেরত দিয়েছেন বর্তমানে টাকা আমার কাছে আছে।বিষয়টি সমাধানের জন্য মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সভাপতির বাড়িতে বসাবসি করেছি। আর এটিও স্যারের সাথে সম্পর্ক ভাল হওয়ায় মাঝেমাঝে টাকা লেনদেন করার কথাও জানান সহকারি শিক্ষক হারুন অর রশিদ।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা খাতুন বলেন, পুরাতন ভবন অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ এর বিরুদ্ধে শানপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করেছি।বিক্রিত টাকা বিকাশে গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, সহকারি শিক্ষক হারুন আমার কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য টাকা ধার নিয়েছিল, পরে বিকাশে ১৩ হাজার ৯০০ টাকা পাঠিয়েছে। এটা ভবন বিক্রির টাকা কিনা আমার জানা নেই,তবে হারুনকে আবার বিকাশেই সেই টাকা ফেরত দিয়েছি।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ৭ই মার্চ সকালে স্কুলে গিয়ে ভাঙা ভবন দেখে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেনকে অবহিত করি এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সহকারী শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ স্কুলের পুরাতন ভবন বিক্রয় করেছে। তিনি একক সিদ্ধান্তে পুরাতন ভবনটি বিক্রি করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কুমারখালী শিক্ষা অফিসার ও কুমারখালী থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষককে শোকজ করার জন্য ক্লাস্টার এটিও কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১:৪২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মোঃ আসাদুজ্জামান, উপদেষ্টা
মোঃ খালিদ হাসান রিংকু, সম্পাদক ও প্রকাশক
গোলাম কিবরিয়া জীবন, বার্তা সম্পাদক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

দিঘলকান্দী,(পুলিশ ক্যাম্প বাজার), ঝাউদিয়া, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া-৭০৫০।
নিউজ রুম : +৮৮ ০১৭৩২-৭১৩৪২১
ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!