বুধবার | ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

“হজ্জের জন্য বঙ্গবন্ধুর আনা নৌযান “হিজবুল বাহার”কে প্রমোদ তরী বানিয়ে তাতে নোংরামী করেছিলেন জিয়া।”

“হজ্জের জন্য বঙ্গবন্ধুর আনা নৌযান “হিজবুল বাহার”কে প্রমোদ তরী বানিয়ে তাতে নোংরামী করেছিলেন জিয়া।”

“হজ্জের জন্য বঙ্গবন্ধুর আনা নৌযান “হিজবুল বাহার”কে প্রমোদ তরী বানিয়ে তাতে নোংরামী করেছিলেন জিয়া।”


–চট্রগ্রাম বোটের সম্মেলনে বোট সভাপতি এডভোকেট দেওয়ান মারুফ সিদ্দিকী।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রযুক্তি শান্তি সমৃদ্ধির জয়গানে।। মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে সর্বদা নিয়োজিত সংগঠন বাংলাদেশ অনলাইন আওয়ামী টিম- বোট চট্টগ্রাম জেলা শাখার সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভার স্নেহাস্পদ সভাপতি ইলিয়াস উদ্দিন আকাশ। সম্মেলনের প্রধান বক্তা বোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয় ও বলিষ্ঠ অনলাইন এক্টিভিষ্ট সেলিনা আপা। বিশেষ অতিথিবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও আমার প্রাণপ্রিয় বোটের সর্বস্তরের কর্মীবৃন্দ। সবার প্রতি আমার সালাম, আদাব ও শুভেচ্ছা।


বীর চট্টলার ঐতিহাসিক পবিত্র বীরভুমে সম্মেলনের শুরুতেইই মহান আল্লাহ তায়ালার শোকরিয়া আদায় করছি। দয়াল নবীজির শানে সালাতু সালামবাদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৮ম উর্ধতন মহাপুরুষ দরবেশ শেখ আওয়াল রহমাতুল্লাহি আলাইহির রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। যিনি ১৪৬৪ খ্রীস্টাব্দে জগৎশ্রেষ্ট অলিয়ে মোকাম্মেল হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহির সফরসঙ্গী হয়ে চট্রগ্রামের এই পবিত্র ভুমে শুভাগমন করেছিলেন।

আমি পরম শ্রদ্ধা আর অকৃত্রিম ভালবাসায় স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ রাসেলসহ ১৫ ও ২১ আগষ্টের নিহত সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ৭১’র মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন, ২০০৬’র খালেদা নিজামী সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা গণবিস্ফোরণসহ ইতিহাসের প্রতিটা পরতে পরতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে নিহত সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।


প্রিয় বন্ধুগণ,
বীর চট্টলার ঐতিহাসিক এই বীরভুমে বোটের সম্মেলনে আজ কিছু মহাসত্যের অবতারণা করবো। আশাকরি ধৈর্য সহকারে আমার বক্তব্যের শেষ অংশটুকু পর্যন্ত পড়ে নিবেন। পবিত্র ভুমি চট্রগ্রাম। যেখানে শায়িত আছেন ওলিকুলের শিরোমণি, এতদ্বঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড়ানোর সিপাহশালার হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ১৪৬৪ খ্রীস্টাব্দে পবিত্র এই চট্টগ্রামের মাটিতে শুভাগমন করেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে এসেছিলেন দরবেশ শেখ আওয়াল রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৮ম উর্ধতন পূর্বপুরুষ। শেখ আওয়াল (রঃ) জীবনে কখনও নামাজ ক্বাযা করেন নাই, মিথ্যা কথা বলেন নাই, মানুষকে কষ্ট দেন নাই, দূনিয়ারীদারীতে মজে যান নাই। মুখে আল্লাহ আল্লাহ আর কর্মে ইসলাম প্রচারই ছিলো মনোবাসনা। তাঁরা এই পবিত্র ভুমিতে ইসলাম প্রচারে এসেছিলেন স্বপ্নে দয়াল নবীজির আদেশ পেয়ে। অথচ ইসলাম প্রচারক সেই নিরহংকার লোভ লালসাহীন মানবতাবাদী দরবেশ শেখ আওয়ালের ৮ম বংশধরদের বিরুদ্ধে ফেরাউনের দল বিএনপি এবং সীমারের দল জামাত অপপ্রচার করে বলতো-” হরে কৃষ্ণ হরে রাম, শেখ মুজিবের বাপের নাম”।

প্রিয় বীর চট্টলার ভাইয়েরা,
আজকে আপনাদের কাছে একটা ঘটনা বলি- ১৭ জানুয়ারি ১৯৮১ সাল। চট্টগ্রাম শহর ব্যাপী সাজ সাজ রব। শহরের চারদিকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের উঠতি নায়িকাদের আনাগোনা। বিপুল সংখ্যক ক্যাডারের আগমনে শহরব্যাপী একটা আতঙ্ক ও বিরাজ করছে মানুষের মাঝে। কি যেন একটা ঘটতে যাচ্ছে আজ চট্টগ্রামে। সকাল ১০.৩৪ বাজতেই ক্যাডার সমেত প্রায় দুই হাজার লোক নিয়ে ” হিজবুল বাহার” নৌযানটি রওয়ানা দিলো গভীর সমুদ্রের দিকে। সুরেলা মুর্চনা, মদ আর নারীর নেশায় বুঁদ হয়ে গেলো দুই হাজার যাত্রী। পাঁচ হাজার লিটার বিদেশী মদ সাবাড় করে তিনদিন পরে ফিরে আসলো “হিজবুল বাহার” প্রমোদতরী। দেখুন- হিজবুল বাহারকে প্রমোদ তরী বলতে বুকটা কিভাবে কেঁপে উঠলো? উঠারই কথা। কারণ হিজবুল বাহার জাহাজটি ফ্রান্স থেকে বঙ্গবন্ধু এনেছিলে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে। অথচ হজ্জের জন্য আনা সেই হিজবুল বাহার পবিত্র এই যানটিতে ১৭-১৮-১৯ জানুয়ারি ১৯৮১’র এই তিনদিন কত জঘন্য অপকর্ম করেছিল তা ভাবতেই ঘৃণায় চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। ওফ! আর ভাবতেই পারছি না!!

প্রিয় ভাইয়েরা আমার,
তারপরের ইতিহাস সবার জানা। হজ্জের পবিত্র নৌযানকে প্রমোদতরী বানানোর কিছুদিন পরেই ৩০ মে-১৯৮১ এই চট্রগ্রামের সার্কিট হাউজেই ঘটে গেলো হৃদয় বিদারক এক ঘটনা। ব্রাশফায়ারে দেহটা ছিন্নভিন্ন করে বাতাসে মিশিয়ে দেওয়া হলো জিয়ার। ইতিহাসের নির্মমতায় তার হত্যার বিচার চাইলো না কেউ। দল কিম্বা পরিবার। কেউ না, কেউ না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ যিনি আইন করে বন্ধ করে দিয়েছিলেন তার বিচার প্রকৃতি এমনভাবে বন্ধ করে দিলো যে, একজন মানুষ হত্যার বিচার হতে হবে তা যেন বেমালুম ভুলে গেলো তার হাতে গড়া অবৈধ দল বিএনপি এবং তার খুনি পরিবার। নতুন প্রজন্মের বদ্ধমূল ধারণা জিয়া হত্যায় তার পরিবারের কেউ হয়তোবা জড়িত। নইলে জিয়া হত্যার বিচার চাইবে না কেন?

প্রিয় মানবিক আদর্শে উজ্জীবীত ভাইয়েরা,
আমরা প্রত্যেকটা নৃশংস হত্যার বিচার চাই। বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি জিয়াউর রহমান গড়ে তুলেছিলেন তা আমরা ভাঙতে চাই। প্রয়োজনে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে প্রচন্ড আঘাত করতে চাই। সবার জন্য ন্যায় বিচার সুনিশ্চিত দেখতে চাই। সুশাসনের বলিষ্ঠতা দেখতে চাই। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদুক তা আর দেখতে চাই না। বাংলার কোন প্রান্তে মা তার সন্তান হারিয়ে, বোন তার স্বামী হারিয়ে, সন্তান তার পিতা হারিয়ে নিদারুণ আর্তনাদ করুক তা আর দেখতে চাই না। দুর্নীতির রাহুর গ্রাস থেকে জাতিকে মুক্ত করতে জননেত্রী শেখ হাসিনার দূর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সার্থক করে তোলার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে চাই। ১৯মার্চ ৮১তে জিয়াউর রহমান অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক তারুণ্যের হাতে তুলে দিয়ে যে ধারার রচনা করেছিলেন সেই ধারার কবর রচনা করতে চাই।

তাই আসুন!
আমরা সকল অনলাইন এক্টিভিষ্টরা এক কাতারে শামিল হই। তারজন্য সকলকে আমরা বোটের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষ নিয়ে বোট টিম গড়বো, ইনশাআল্লাহ। বিচ্ছিন্নভাবে নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি-জামাত অপশক্তি মোকাবেলায় অনলাইন যুদ্ধটা বেগবান করার আহবান জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি-

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
জয় হোক বোট

Facebook Comments Box

Posted ৩:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

মোঃ শামীম আসরাফ, সম্পাদক ও প্রকাশক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

ঝাউদিয়া বাবলু বাজার, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮ ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!