হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বাড়িতে থাকেন করোনা রোগী

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টার খাতায় করোনা ওয়ার্ডে আটজন রোগী চিকিৎসাধীন থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও সেখানে আছেন মাত্র একজন। বাকিরা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের জন‌্য বরাদ্দ দেওয়া একটি সরকারি বাসভবনে করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে আটজন চিকিৎসাধীন আছেন বলে রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ আছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং চারজন নারী। তারা সবাই ওই স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এছাড়া, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আছেন একজন পুরুষ রোগী। সাধারণ রোগীসহ চিকিৎসাধীন আছেন মোট ২৬ জন। তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং ১২জন নারী। তবে সাধারণ রোগীদের তথ্যের সত‌্যতা পাওয়া গেলেও করোনা রোগীদের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখানকার চারজন চিকিৎসক—ডা. সৈয়দা তাসনীমা তাবাসুম, ডা. এস এম সাজ্জাদুল ইসলাম, ডা. মামুনুর রশিদ ও ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মুকিত এবং এক্স-রে ম্যান শরিফ হাসান, নার্স খোরশেদা পারভীন ও আকলিমা খাতুন, আয়া সানোয়ারা খাতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলে রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ আছে। কিন্তু করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সানোয়ারা খাতুন বলেন, ‘এখানে আমি ছাড়া আর কোনো রোগী নেই। ৭ তারিখ থেকে আমি একাই আছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ‌্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, চারজন চিকিৎসক নিজেদের করোনা রোগী দাবি করে বাড়িতে থাকছেন, আবার প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখছেন। করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন শুধু একজন আয়া।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা বলেন, ‘হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার এবং স্টাফ সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা তাদেরকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি নিয়েছি। তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা করোনা ওয়ার্ডের পরিবর্তে বাড়িতে থাকেন। ভর্তি না নিলে তো ওষুধসহ অন‌্য সেবা দিতে পারব না। করোনা আক্রান্ত আটজনই এই মিরপুর হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারী। তাই তাদের একটু সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।‘

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা রোগীকে কোনোমতেই সাধারণ রোগীর মতো দেখা ঠিক না। করোনা রোগী হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি দেখিয়ে বাইরে থাকছে, এমন তথ্য আমার কাছে এসেছে। আমি মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীরা হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসাসেবা নেন।’

অন‌্য করোনা রোগীরা বাড়িতে চিকিৎসাসেবা নিলে হাসপাতাল থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকরা বাড়িতে অবস্থান করে হাসপাতাল থেকে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছেন। এ অভিযোগ তুলে এর কঠোর সমালোচনা করছেন মিরপুর উপজেলাবাসী।

Facebook Comments Box

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *