দৌলতপুর প্রতিনিধি

আব্দুর রশিদ বাবলু চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রাব্বুর কিছু কথা
আসসালামু আলাইকুম স্ক্রিনে যার ছবিটা দেখছেন তিনি একজন স্বনামধর্মী চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রশিদ বাবলু উনি রিফায়েতপুর ইউনিয়নের কাগহাটি গ্রামের নিবাসী ছিলেন। কেন ছিলেন বললাম কারণ উনি গত ১৪ অক্টোবর ২০২৩ ইন্তেকাল করেন ঠিক আজকের তারিখে। আর আমার সাথেই তার কি সম্পর্ক আমি না হয় একটু পরেই পরিচয় দিই।
রেফায়েতপুর ইউনিয়নের গ্রামের গ্রামবাসীরা কি তার অবদানের কথা কখনো ভুলতে পারবেন?
চলুন পিছনে ফিরে তার অবদান গুলো একটু দেখা যাক
কাগহাটি ঝাউদিয়া গাজীপুর ১৯৮০ এর দশকের দিকে চারিদিকে যখন ভের ভেরে কাদা অন্ধকারে আচ্ছন্ন, নাকের ভিতর কেরোসিনের কুপির কালো ধোয়া ঢুকে থাকতো সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে যখন আমরা দেখতাম নাকের কাছে দুইটা কালো দাগ কারণ সারা রাতে কার্বন ডাই অক্সাইড নাকে চলে গিয়েছে, তখন তিনি চিন্তা করলেন এই গ্রামে বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করলে খুবই ভালো হবে, যে চিন্তা সেই কাজ, তার কোন সম্পত্তির কথা চিন্তা না করে এই গ্রামবাসীকে আলোর মুখ দেখালেন, জানি এ কথা কারো মনে থাকবে না।
তারপরে তো অনেক পরে তিনি চিন্তা করলেন ইলেকট্রিসিটি তো হল কমিউনিকেশন একটা ব্যবস্থা করা দরকার সরকারের কাছ থেকে অনুমতি দিয়ে টেলিফোন এই গ্রামবাসীর জন্য, যদিও এখন মানুষের কাছে হাতে হাতে মোবাইল কল করতে পারে, তখন এই টেলিফোনটা মানুষের কাছে স্বপ্নের মত হঠাৎ করে রিং বেজে উঠবে বিদেশ থেকে প্রবাসী ভাইদের কলও রিসিভ হবে অন্তত ঈদের দিনে একবার হলেও, এই ব্যবস্থাটাও তিনি করেছিলেন।
কিছু কাজের জন্য উনি বাড়ির বাইরে ছিলেন হঠাৎ একদিন তার স্বনামধর্মী স্ত্রীর মমতাময়ী মার কাছে এসে গ্রামবাসীরা বলল তারা আগে যেখানে স্কুল মাঠে বাজার ছিল সেই বাজারে তারা বসবে না তারা চায় তাদেরকে একটা নতুন বাজারের জন্য জায়গা দিয়ে। উনি পাকা ধান কেটে বাজারের জন্য জমি দিলেন এবং সরকারের নামেও ওয়াকফা করে দিলেন এখন আপনারা বাবলুবাজার যেটা দেখেন সেটা তারই অবদান,,, বাজারের আশপাশের যত দোকানের জন্য পজিশন আছে প্রায় সবই তার জমির মালিকানা ছিল তা নামমাত্র পানির দরে উনি গ্রামবাসীকে দিয়ে দিয়েছিলেন, উনি যদি অন্যদের মতো হতেন তাহলে তার ছেলে মেয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো ভালো পজিশনের রেখে বিক্রি করতে পারতেন কিন্তু তা করেননি, হয়তো অজানা অনেকের কাছে পজিশন দানও করেছেন।
মাদ্রাসাকে জমি দিয়েছেন ঈদগায়ের জন্য জমি দিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক এর জন্য জমি দিয়েছেন।
চুনিয়া মোড় মাদ্রাসার জন্য রাস্তা হচ্ছিল না দাবি করলেন আমাদেরকে একটু রাস্তার ব্যবস্থা করেন তিনি সেটাও দিয়ে দিলেন।
এরই মধ্যে তাকে গ্রামবাসীরা প্রস্তাব করলেন আপনি সরকারের হয়ে প্রতিনিধি হওন,
অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য দাবী করলেন ভোটে দাঁড়ালেন, তখন একটা নতুন মজার ঘটনা শুনলাম এখন দীঘলকান্দি স্কুলে ভোট সেন্টারটি আছে সে কি আগে কয়েক মাইল দূরে তেলিয়াগান্দি গ্রামের সাথে ভোট সেন্টার সংযুক্ত ছিল, দীঘলকান্দি গ্রামের ভোটারদের অনেক কষ্ট হতো সেখানে যেয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নিতে, আর যারা মহিলা ছিলেন তাদের তো অন্যরকম কষ্ট হতো যেকোনো সময় ইমার্জেন্সি শুরু হয়ে যেত, তারই অবদানের জন্য দিঘলকান্দি বাসি এখন তার নিজ গ্রামে ভোট দিতে পারছেন।
সে অনেক দিন আগের কথা একবার তার মমতাময় মার কাছে একটা ছোট্ট মিস্টির প্যাকেটে মিস্টি দিয়ে গেলো এক গ্রামের একজন কারন কি জানেন সেই ব্যক্তিকে তার জামি দান করেছেন জাতে তারা ভূমিহীন না হয়ে বাস করতে পারে। এরকম কত জমি না দান করেছেন আমাদের অজান্তে।
যখন ইলেকট্রিসিটি নিয়ে আসলেন গ্রামে তখন তিনি চিন্তা করলেন একটি রাইস এবং ফ্লাওয়ার মিল বসায় গ্রামবাসীর সুবিধা হবে তারও একটা ইনকামের পথ থাকবে সেই রাইস এবং ফ্লাওয়ার মিল থেকে যত পরিমানে বাকি গেছে তার সেই ঋণও শোধ দিতে পারবে না।
এতকিছু যে উনি করতেন সেগুলো তিনি কোথায় পেয়েছিলেন জানেন তার বাবা তো জমিদার ছিলেনই উনার নামেও জমিদারি ছিলেন যা তার মা পরিচালিত করতেন। যেহেতু উনার বাবা তার আনুমানিক তিন সাড়ে তিন বছর বয়সে মারা যান, তাই তার ফুফু পৈত্রিক সম্পত্তি যেটা বাবার অংশ পেতেন সবকিছু তার ভাইয়ের ছেলের নামে দিয়ে যান এই ছোট ভাইয়ের ছেলের জন্য!!!
তিনি কখনোই তার ছেলে মেয়ের কথা চিন্তা করিনি গ্রামবাসীর সেবার জন্যই সবকিছু দান করে গেছেন, গ্রামবাসীরা আপনার কি তার অবদানের কথা ভুলতে পারবেন নিজের বুকে হাত দিয়ে একটু বলুন তো?
চলুন এবার আমি বলি কেন আমি এত কথা বলছি কারণ উনি আমার শ্রদ্ধেয় বাবা আজকে তার মৃত্যুবার্ষিকী আমি তার জন্য আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি আল্লাহর কাছে, রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।
আমার বাবা আমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে সাহায্য করেছেন আমার মেধা দিয়ে। তিনি সবসময় চাইতেন তার ছেলে প্রতিষ্ঠিত হবে তার ছেলের যোগ্যতায়। তিনি তার ছেলেকে সবসময়ই রাজনীতির বাইরে রেখেছেন, অনেকেই জানেন তার ছেলে একজন ইঞ্জিনিয়ার, দেখলে হয়তো চিনতে পারবে না।
আমি আমার বাবার জন্য সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করি।
এই বাবলু চেয়ারম্যান যুগ যুগ গ্রামবাসীর কাছে বেঁচে থাকবে ইনশাআল্লাহ। কতিপয় অনেক মানুষ তার নামে অনেক সমালোচনা করেন কিন্তু আপনি কি তার অবদানের কথা ভুলতে পারবেন। তার নামে যে মিথ্যা কথা প্রচার করে বেড়ায়, এগুলো কি তাদের বিবেকে একটু বাধে না?
আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমার বাবার দান সাদটাকে কবুল করুক আমিন।
কিছু কতিপয় লোক বলে তার বাড়ির দিকে কেউ যাবি না, আরে তাদের কি তার নখের যোগ্যতা আছে একথা বলার? যারা এসব কথা বলে বেড়ান তারা কি তার চুল পরিমাণ হতে পারবেন তার সমান? আবার তার গড়া প্রতিষ্ঠান নিয়ে বড়াই করে হায়রে মানুষ!!!!!
জাযাকাল্লাহ খাইরান আমার কথাগুলো সময় দিয়ে পড়ার জন্য।
“ইঞ্জিনিয়ার রাব্বু”
Posted ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
protidinerkushtia.com | editor