শুক্রবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

‘চাওয়া’ থেকে দূরে যাও, জীবনটা সুন্দর হবে – মোশাররফ করিম

নিজস্ব প্রতিনিধি

‘চাওয়া’ থেকে দূরে যাও, জীবনটা সুন্দর হবে – মোশাররফ করিম
আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে ছোট্ট এক গ্রাম পিঙ্গলকাঠী। সেই গ্রামের আবদুল করিম দেশবিখ্যাত অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নানা কারণে সেই স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়নি। তাঁর ১০ ছেলেমেয়ের মধ্যে অষ্টমজন ছিল ভীষণ দুষ্টু। ডানপিটে ছেলের দুষ্টুমি কোনোমতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না তিনি। বাবা-মা উচ্চশিক্ষার্থে সন্তানকে ঢাকা পাঠান, আবদুল করিম করলেন উল্টোটা। বাস করতেন ঢাকাতে, সেখান থেকে ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেন পিঙ্গলকাঠীতে। বরিশাল গিয়ে ছেলে অন্যদের অঙ্গভঙ্গি, গলার স্বর নকল করাটা একদম অভ্যাস বানিয়ে ফেলে। বাবার প্রশিক্ষণের সুবাদে চমত্কার আবৃত্তি তো আগে থেকেই করত। পাশাপাশি স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অভিনয়েও নজর কাড়ে সে। একই সঙ্গে চলতে থাকে যাত্রাপালায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়। অভিনেতা হতে গেলে অনেক বাধাবিঘ্ন পেরোতে হয়। আবদুল করিম তাই ছেলেকে সরাসরি সমর্থন দেননি কখনো। বাধাও দেননি। পরবর্তীকালে তাঁর সেই ছেলে ঠিকই হলো দেশবিখ্যাত অভিনেতা। পূরণ করল বাবার মনের কোণে লুকিয়ে থাকা অব্যক্ত স্বপ্নটা। সেই ছেলেটি মোশাররফ করিম—বাংলা নাটকের মুকুটবিহীন সম্রাট।
 
১৯৭২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকায় জন্ম। পিঙ্গলকাঠী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষে আবার ঢাকায় ফিরে পড়েছেন তেজগাঁও কলেজ ও ঢাকা কলেজে। মঞ্চে কাজ করতেন আগে থেকেই, ১৯৯৯ সালে এক পর্বের নাটক অতিথি দিয়ে অভিষেক ঘটে ছোট পর্দায়ও। অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। ২০০৪ সালে জয়যাত্রা সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রবেশ তাঁর। ২০১৫ সালে জালালের গল্প চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আভাঙ্কা চলচ্চিত্র উত্সবে অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার। একাধিকবার পেয়েছেন বাংলাদেশের বিনোদনজগতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মাননা ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’। ২০ জুন উত্তরায় চলছিল অনিমেষ আইচ পরিচালিত শব্দদূষণ নাটকের শুটিং। সেই শুটিংয়ের মাঝেই ব্যস্ত এই অভিনয়শিল্পী মুখোমুখি হন কিশোর আলোর সাক্ষাত্কার দলের। সেই দলে ছিল উত্তরা উচ্চবিদ্যালয়ের সৌরভ জামাল, হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামিয়া আরেফিন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের সুয়াইবা বিনতে সোলায়মান ও সংঘ মিত্রা এবং ঢাকা কলেজের নুরুল করিম। ছবি তুলেছেন মাসুদুল হক।
 
মোশাররফ করিম। ছবি : কবির হোসেন
মোশাররফ করিম। ছবি : কবির হোসেন
এক সাক্ষাত্কারে আপনার ভাইয়ের মেয়ে বলেছেন, ‘চাচ্চু নাটকে যেমন হাসিখুশি, বাস্তবে তার উল্টো। অনেক গম্ভীর!’ গম্ভীর একজন মানুষ সারা দেশের এত এত মানুষকে অবিরত কীভাবে হাসিয়ে চলেছেন?
 
এটা অনেক কঠিন প্রশ্ন। পরীক্ষার খাতায় উত্তরটা লিখলে অনেক নম্বর পেতাম। আমার কাজ তো অভিনয় করা। আমি এমনিতে গল্প করতে পছন্দ করি। কাজগুলো করতে হলে একেক সময়ে একেক রকমের চরিত্র আমাকে দেওয়া হয়। দেখা যায়, অভিনয়ের সময় আমার যে ব্যক্তিত্ব, বাইরে তার থেকে আলাদা হতেই পারে। স্বাভাবিক।
 
খুব ব্যস্ত একজন মানুষ আপনি। এত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে কীভাবে সময় দেন?
 
এত ব্যস্ততার মাঝেও কিছু সময় তো থাকেই। পরিবারের জন্য কিছু সময় রাখা হয়। সেই সময়টুকুই দিই।
 
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হয়?
 
আগে তো এটা নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। আড্ডা দেওয়া, গল্প করা। এখন এগুলো আর নিয়মিত হয় না, কিন্তু হয়, এখনো হয়।
 
ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে কি এখনো যোগাযোগ আছে?
 
হ্যাঁ, আছে।
 
আপনার চোখে বন্ধুত্ব কী?
 
বন্ধুত্ব আমার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটা, সবচেয়ে নিষ্কলুষ সম্পর্ক। শর্তহীন সম্পর্ক। বন্ধুত্বের মধ্যে কোনো শর্ত থাকে না। ভীষণ তাজা সম্পর্ক। ভীষণ প্রাণবন্ত সম্পর্ক।
 
১০ ভাইবোনের মধ্যে আপনি ছিলেন অষ্টম। বড় ভাইবোনের আদর নাকি শাসন, কোনটা বেশি ছিল?
 
আদরটা আসলে মানুষের মনে থাকে না। শাসনটাই থাকে। আমি খুব শাসন পাওয়ার যোগ্য ছিলাম! কারণ, আমি খুব শৃঙ্খল না, বাকি দশজনের মতো গোছানো না। এ কারণে আমাকে বশে আনার চেষ্টা সবারই ছিল। তাদের এই চেষ্টা কাজে লাগেনি তা না, কাজেও লেগেছে।
 
আপনার দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হয়ে আপনাকে নাকি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
 
হ্যাঁ, অনেকটাই এ রকমই। খুব আনলিমিটেড দুষ্টুমি করতাম। একটা চঞ্চল ছেলে, যে দুষ্টুমি করে, সে তো সার্বক্ষণিকই করতে থাকে। সে তো ক্লান্ত হয় দুষ্টুমি করতে করতে। আমিও তাই।
 
ছোটবেলা ঢাকায় কেটেছে, বরিশালেও কেটেছে। কোন জীবনটা কেমন ছিল?
 
জীবনের ওই মুহূর্ত বোঝা না গেলেও পরে গিয়ে অনেক ভালো লাগে। সব সময়ই। খুব বেদনার সময়ও। আমার কাছে আমার জীবনের একটা শ্রেষ্ঠ সময় ক্লাস ফাইভ থেকে টেন। যে সময়টা আমি গ্রামে থেকেছি। আমি মনে করি, ওই সময়টা যদি গ্রামে না থাকতাম, আমার এই বড় হয়ে ওঠা—এ জায়গায় কিছু অপূর্ণতা থেকে যেত। ওই সময় টানা পাঁচ-ছয় বছর গ্রামে থাকার ফলে আমি আসলে দৃশ্য কাকে বলে বুঝেছি। রোদ কী, কাঠফাটা গরম কাকে বলে, বর্ষা কাকে বলে—সেটা আমি আসলেই বুঝেছি। জ্যোত্স্না কাকে বলে, অমাবস্যা কাকে বলে, আমি বুঝেছি। হাড় কাঁপানো শীত কাকে বলে, বুঝেছি। এই যে প্রকৃতির স্বাদটা, আমার মনে হয়, গ্রামে ওই সময়টা না থাকলে এই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতাম। জীবনের একটা অপূর্ণতা রয়ে যেত।
 
আপনার বাবা তো অভিনয় করতেন। শুনেছি তিনি নানা কারণে তাঁর অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলেন। আপনাকেও প্রকাশ্যে খুব বেশি উত্সাহ দিতে পারেননি…
 
বাবার আসলে অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা ছিল। বাবা অভিনয় করতেন, কিন্তু কখনো পেশাদার অভিনয় করেননি। আমি জানি, বাবা অভিনেতা ছিলেন। আবৃত্তি করতেন চমত্কার। আমাকে কবিতা আবৃত্তি করতে শিখিয়েছিলেন। অভিনেতা হই, সেটা তিনি কখনোই আমাকে স্পষ্ট করে বলেননি। কিন্তু আমাকে নিষেধও করেননি। থিয়েটার করতাম, চর্চার মধ্যে ছিলাম। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, বাবা আনন্দ পেতেন। আনন্দ পাওয়ারই কথা।
 
আপনি কি মনে করেন বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন?
 
আমি মনে করি পেরেছি।
 
অভিনয়ের শুরুটা কীভাবে?
 
অভিনয়ের শুরুটা এমনি এমনিই। এমনি এমনি বলতে খুব ছোটবেলা থেকেই করতাম। এটাকে কেমন যেন ভালো লাগত। স্কুলে যদি বলত একটা কবিতা পড়তে, আমার কাছে খুব আনন্দ লাগত। কবিতা পড়তে আমি এগিয়ে যেতাম। এভাবেই তো শুরু। তারপরে ঢাকায় এসে থিয়েটারে, আমাদের দলের নাম নাট্যকেন্দ্র। ওখানে একটা দীর্ঘ সময় অনুশীলন করি।
 
মঞ্চের সঙ্গে টেলিভিশনের পার্থক্য কতখানি?
 
সবচেয়ে বড় পার্থক্য হচ্ছে টেলিভিশন ঘরে বসে দেখা হয়, মঞ্চে সরাসরি দেখতে হয়। শিল্পের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্নের উত্তর সংজ্ঞায়িত করে বলা মুশকিল। আর অনেকে বলতে চায় যে অভিনয়ের ধরনে পার্থক্য আছে। এটাকে নির্দিষ্ট করে, সীমিত করে বলা যায় না।
 
ভালো অভিনেতা হওয়ার জন্য মঞ্চের ভূমিকা কতটুকু?
 
অনেক বড় ভূমিকা আছে মঞ্চের। মঞ্চ চরিত্রায়ণ বুঝতে শেখায়। কোন অভিনয়টা যুক্তিসংগত, ট্রু অ্যাক্টিং কোনটা, ফলস অ্যাক্টিং কোনটা, কোন অভিনয়টা পুরোনো ধরনের, কোন অভিনয়টা ক্লাসিক্যাল না, কোন অভিনয়টা যুগোত্তীর্ণ না—এই যে ধরনগুলো, সেগুলোর সঙ্গে পরিচয় করায় মঞ্চ। নাটক বা শিল্পকলাবিষয়ক, সাহিত্য ইত্যাদি সবকিছু, সব ক্ষেত্র পড়া হয়, জানা হয় এখানে।
 
আজকাল অনেকেই অভিনয় করেন মঞ্চের অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই। এ বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
 
মঞ্চ থেকে আসেনি, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষার মধ্য দিয়ে আসেনি, তার মানে সে অভিনয়টা পারবে না, তা বলব না। আমার কাছে মনে হয় অভিনয়টা মজ্জাগত, ভেতরে থাকতে হয়। বেসিকটা আমার ভেতরে থাকার পরে এটার যে পরিচর্যা, সেই পরিচর্যাটা করতে হয়। চরিত্রটাকে কেমন করে নির্মাণ করতে হয়, এই চরিত্রটার পড়াশোনা কী, আর্থসামাজিক অবস্থান কী, সেই অনুযায়ী তার মানসিকতা কী—এগুলো যে নিরূপণ করা, সেই শিক্ষাটা আমি মঞ্চ থেকে পেয়েছি। এখন মঞ্চে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকেন। অনেকেই আছেন যে এই চরিত্রায়ণটা করতে পারবেন, কিন্তু সেই অনুযায়ী চরিত্রে ডুব দিতে পারবেন না আসলে। কারণ, তাঁর মজ্জাগতভাবে ওই ব্যাপারটা নেই। আবার অনেকেই আছেন, যাঁদের মজ্জাগতভাবে ব্যাপারটা ভেতরে আছে, কিন্তু চরিত্রের বিশ্লেষণটা তিনি বুঝতে পারেন না। যে কারণে উনি মজ্জাগত অভিনয়ের যোগ্যতা থাকায় ক্যামেরার সামনে যেটা করেন, সেটাকে খুব ফ্লেক্সিবল মনে হয়, সত্য মনে হয়, আসল মনে হয়, কিন্তু সেটা অনেস্ট অ্যাক্টিং নয়। কারণ, সেটা হয়তো চরিত্রের ধারেকাছেই নেই। তিনি নিজের মতো করে খুব ফ্লেক্সিবলভাবে কথা বলে গেলেন। যে কারণে দুটি ব্যাপারই দরকার আছে। একটা হচ্ছে মজ্জাগত। এর মধ্যে জাদুকরি একটা ব্যাপার আছে। জীবনানন্দ দাশ বলেছেন, ‘সবাই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’ ব্যাপারটা ওই রকমই। সবাই অভিনেতা নন, কেউ কেউ অভিনেতা। সবাই চাইলেই কবি তো হতে পারবেন না, কবিতা তো সবার মধ্যে আসবে না। তারপরও এর মধ্যে বসবাসের ব্যাপার আছে। সংশ্লিষ্ট যে শিক্ষাটা, এটা বহন করার দরকার আছে।
 
আপনি নাকি শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে বই পড়েন? বই একজন অভিনেতার জীবনে কেমন ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
 
অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু অভিনেতা না, সবার জীবনেই বইয়ের ভূমিকা অনেক।
 
একে একে কিশোর আলোর সব প্রশ্নের উত্তরই দিলেন মোশাররফ করিম
একে একে কিশোর আলোর সব প্রশ্নের উত্তরই দিলেন মোশাররফ করিম
‘যমজ’সহ কয়েকটি নাটকে আপনি দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাস্তবে যদি হঠাত্ করে কোথাও আরেকজন মোশাররফ করিমের দেখা পান—যাঁর চালচলন, হাসি-কান্না, কথাবার্তা সব আপনার মতো, কী করবেন?
 
ছাড়ব না ওকে, ধরে রেখে দেব। বাসায় পালব। ওকে বলব যে তুই ফ্রি থাক। তুই অভিনয় করিস না, তুই যা খুশি তা-ই কর। তোর মন চায় যা করতে, তা-ই কর, ওকে ওর স্বাধীনতাটা দিয়ে দেব। সেটা দিয়েই আমি আনন্দ পেতাম। কারণ, ওটা তো আমারই সত্তা।
 
কখনো অভিনয় করেছেন ময়রার চরিত্রে, কখনো পকেটমারের। কখনো শিক্ষিত বা আধুনিক শহুরে চরিত্রে, কখনো-বা সরল বা কুটিল গ্রাম্য লোকের চরিত্রে। কখনো বাবা, কখনো ছেলে, কখনো ভাই, বন্ধু বা প্রেমিকের ভূমিকায়। সব কটিতেই আপনি সফল। একজন মানুষ একেক সময় একেকটা চরিত্রের মধ্যে পুরোপুরি কীভাবে ঢুকে যেতে পারে?
 
ম্যাজিক! জাদু। বিষয়টা মজ্জাগতভাবে থাকতে হয়। প্রেমটা থাকতে হবে। এটা তো আসলে অঙ্ক দিয়ে হবে না। এ প্লাস বি হোল স্কয়ার দিয়ে শিল্প বোঝানো যাবে না। এটা তোমাদের কাছে যেমন বিস্ময়কর, কখনো কখনো ভাবলে আমার কাছেও বিস্ময়কর। আমার কাছে মনে হয় যে আমি কেমন করে এই সংলাপটা বললাম। এটা একধরনের প্রবেশ। এই যে চরিত্রের মধ্যে প্রবিষ্ট হওয়া এবং তার মধ্যে বসবাস করা, সেই ব্যাপারটায় ডুব দেওয়া। আমি যে নিজেকে খুব বড় কিছু বলছি, তা নয়। তবে কখনো কখনো সেটা মানি।
 
নিজের করা এত সব চরিত্রের মধ্যে কোন চরিত্রটা আপনার সবচেয়ে বেশি প্রিয়?
 
একটা চরিত্র বলা যাবে না। অনেক চরিত্রই আমার পছন্দ। ৪২০ নাটকের চরিত্রটা পছন্দ। তারপর তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা—সেটা পছন্দ। অভিনেতা নামে একটা একক নাটক করলাম, লাইসেন্স, তারপর কচি খন্দকারের বেশ কিছু নাটক। নো কোয়েশ্চেন নো অ্যানসার নাটকে পাগলের চরিত্র করেছি। তবে আমি নিয়মিত অভিনয় করতে অনেক ভালোবাসি।
 
আপনার অভিনয় দেখে অনেকেই হাসে, বাহবা দেয়। নিজের অভিনয় দেখে কখনো হেসেছেন বা নিজেকে বাহবা দিয়েছেন?
 
নিজের অভিনয় খুব কম দেখি। মনে হয় দেখব, ‘এই জায়গাটায় কী করলাম, আহা! আরেকটু ভালো করতে পারতাম’—এই আফসোসটা করতে আর ভালো লাগবে না। মালয়েশিয়ায় একবার নিজের একটি ছবি দেখেছিলাম। দেখে ভালোই লেগেছে।
 
‘সেই রকম চা-খোর’ আর ‘সেই রকম পানখোর’ নাটক দুটিতে অভিনয় করার পর চা নাকি পান—কোনটি বেশি খান?
 
চা-টা পছন্দের, কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে আমরা ‘চা’ জিনিসটা আসলে বুঝি না। ঠিকঠাকমতো চা পাওয়া যায় না। সারা দিনে একবার যেমন চা চাই, তেমন চা পাই না। এটা কিন্তু আমাদের সবার বাস্তবতা এবং আসলেই এটা হয়, এক কাপ চায়ে চুমুক দিয়ে বহুদিন ধরে ‘বাহ!’ বলা হয় না। এ কারণে চা-টাও কম খাওয়া হয়, পান তো খাই-ই না!
 
চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে সফল হয়েছেন। ছোট পর্দার সঙ্গে বড় পর্দার কি কোনো পার্থক্য পেয়েছেন?
 
ওটা বড়, এটা ছোট! এই একটা পার্থক্য, দৃশ্যগতভাবে। আসলে এই তো, শিল্পের ক্ষেত্রে একটা আরেকটার সঙ্গে বরাবরই অঙ্গাঙ্গি হয়ে যায়। সিনেমা একটা বিশাল ব্যাপার। আমার কাছে কোনো কিছু ছোট না। বিন্দুও সিন্ধু। একটা বিন্দু, সেখানে যদি তুমি মনোযোগ দাও, তাহলে সেটাও সিন্ধু, সেটাও সাগর। আর যদি মন দিতে না পারো, তাহলে ওটাকে তোমার বড় কিছু মনে হবে না।
 
চার্লি চ্যাপলিনের জীবন ছিল অনেক দুঃখ-কষ্টে ভরা। এ জন্য তিনি সবাইকে হাসিয়ে বেড়াতেন। আপনিও অভিনয়ের মাধ্যমে সবাইকে হাসান। আপনার জীবনে কি বড় কোনো দুঃখ আছে?
 
হাসানোটা আমার দায়িত্ব না। মানুষকে ডিগবাজি দিয়ে হাসানো আমার কাজ না। একটু আগে বললাম, আমি প্রচুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমরা একটা মানুষকে লিমিটেড করে ফেলে তাকে ধ্বংস করে দিতে চাই, একটা মানুষের প্রতিভা বা কোয়ালিটিকে ঠিকঠাকমতো তুলতে পারি না। আমরা বলে দিই যে আপনি এটা, আর কিছু নেই আপনার। এটা খুব খারাপ। বরং লোকটার ভার্সেটাইলিটির দিকে আমরা নজর দিতে চাই না। এটা মিডিয়ার দীনতা।
 
কমেডি অনেক গ্রেট জিনিস। চার্লি চ্যাপলিনের নামের পাশে স্যার যুক্ত আছে। আরেকজন অভিনেতা লরেন্স অব অলিবিয়ার নামের সঙ্গেও স্যার যুক্ত রয়েছে। খুব কম অভিনেতার নামের পেছনে স্যার যুক্ত হয়েছে। লিমিটেড করে ফেলা খারাপ, তাতে সম্ভাবনা নষ্ট হয়। আমার জীবনে দুঃখ আছে কি না, সে জন্য চার্লি চ্যাপলিনকে টানার কোনো দরকার ছিল না। ওটার সঙ্গে এটার কোনো মিল নেই। তবে দুঃখ সবার জীবনেই আছে। খুব সিরিয়াস লোকের জীবনেও দুঃখ আছে। দুঃখ আমারও আছে। আই অ্যাম নট স্পেশাল। আসলে আমি বিশেষ কিছুই না। আল্লাহ চাইছে বলেই কিছু সফলতা আসছে। আর চার্লি চ্যাপলিন বিখ্যাত হওয়ার কারণে তাঁর দুঃখের কথা বেরিয়ে এসেছে। তিনি যদি কিছু না হতেন, তাহলে তাঁর দুঃখের কথা কেউই জিজ্ঞেস করত না।
 
আপনি ভক্তপ্রিয় নাকি ভক্তভীরু?
 
ভক্তপ্রিয়। আমার কিছু ভক্ত আছেন, যাঁদের সঙ্গে আমার আন্তরিক সম্পর্ক আছে। আমি শুধু এটুকু চাই যে একজন ভক্তের আচার-আচরণ যেন ঠিক থাকে। অভদ্রতা বা বেয়াদবি মনে হলে আমার ভালো লাগে না। তখন সেটা তাকে সোজাসাপ্টাভাবে বলি। আমি বিশেষ কেউ নই, সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের মতোই আমার রাগ। অবশ্য বকা দিলে একটু পরেই খারাপ লাগে—কেন আমি এটা করলাম।
 
শ্যুটিংয়ের ফাঁকে মোশাররফ করিম। ছবি তুললেন কিআ হাতে নিয়েও
আপনি যে খুব ভালো আবৃত্তি করেন, তা অনেকেই জানে না…
 
খুব ভালো কবিতা আবৃত্তি আমি করি না। কিন্তু কবিতা পড়তে আমার ভালো লাগে। আমি আমার মতো করে পড়ি। সেটা কিছু হয় কি না, আমি তা-ও জানি না। না হলেও অসুবিধা নেই। আমার আনন্দ হয়, ব্যস। আর আমি কখনো আমার কোনো অ্যালবাম-ট্যালবাম বের করিনি এবং সেই ভাবনাও আমার নেই। আমার হচ্ছে যে ধরো—সবাই বসে আছে, বলল করতে, আমি একটা করলাম।
 
কার কবিতা আবৃত্তি করতে সবচেয়ে ভালো লাগে?
 
জীবনানন্দ দাশ। আমি তো আবৃত্তি করি না। আবৃত্তি বলার চেয়ে কার কবিতা পড়তে ভালো লাগে, এটা প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল।
 
রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি। তাঁর কবিতা যখন পড়েন, তখন অনুভূতি-আবেগগুলো কেমন হয়?
 
আমি তো সব কবিতা পড়ে ফেলিনি। নিশ্চয় সম্ভব না। রবীন্দ্রনাথের কবিতা নিয়ে দুম করে একটা কথা বলে ফেলাও সম্ভব নয়। তবে আমি যতটুকু পড়েছি, তার ভেতর থেকে আমার যে অনুভূতিটা আসে, সেটা আমি তোমাদের বলতে পারি। আমার বন্ধু বলেছিল, আরেক কবির কথাও বলেছিল, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পার্থক্য কী? পথনির্দেশ। একটা দার্শনিকতা, একটা দর্শন। ‘পুকুরের জল ভাবে, চুপ করে থাকি,/হায়, হায়, কি মজায় উড়ে যায় পাখি।/তাই একদিন বুঝি, ধোঁয়া-ডানা মেলে/মেঘ হয়ে আকাশেতে গেল অবহেলে।’—লাইনগুলো ছোটবেলায় পড়েছি, তখন কিন্তু এভাবেই পড়েছি। এর মধ্যে একটা কল্পনা আছে। অনেক বড় হয়ে যখন রবীন্দ্রনাথের বলাকা কাব্য পড়লাম, সেখান থেকে মনে হলো, রবীন্দ্রনাথ যেটা বলতে চান—সবারই একটা চাওয়া আছে এবং চাওয়া থেকেই তৈরি হয় কবি। বিজ্ঞান গতির কথা বলছে, স্থিতির কথা বলছে, সেটার আবেগের দিকটা রবীন্দ্রনাথ প্রকাশ করেছেন। পুকুরের জল, ওপরে পাখি উড়ে যায় দেখে আফসোস করে, ‘হায়! হায়! কি মজায় উড়ে যায় পাখি’! এই যে আফসোসটা তার মনের মধ্যে হলো, সেখান থেকেই তার চাওয়া তৈরি হলো। এই চাওয়াতেই অঙ্কুরোদ্গম। এই চাওয়ার কারণেই একদিন সে জলীয় বাষ্প হয়ে আকাশেতে উড়ে গেল। মেঘ হয়ে আকাশে—পুকুরের জলও আকাশে চলে গেল। এই যে ব্যাপ্তি, বিজ্ঞানে তো অন্যভাবে বলে—এই কথাটাই বলে পরিবর্তন, এই যে চক্র—কবিতায় তিনি চমত্কার করে আনলেন। চাওয়ার আর গতির নিয়মে যে দৃশ্য চলছে, এটা পাওয়া গেল। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কথা বলাও তেমন একটা মানায় না। আমি যতটুকু বুঝি, আমি কিছু পাই। একটা দর্শন আমি পাই সব সময় এবং সেটা আমাকে সাহায্য করে।
 
অভিনয় করতে গিয়ে আপনি বেশ কিছু নাটক নিজেও লিখেছেন। লেখক হিসেবে নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
 
বেশ কিছু নাটক আমি লিখিনি। আমি টিভির জন্য দু-একটা নাটক লিখেছি। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগ আমার তিনটা নাটক মঞ্চায়ন করেছে। এটা আমি তেমনভাবে মূল্যায়ন করি না, কারণ আমি বড় লেখক নই।
 
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের সঙ্গে আপনার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কখনো সমালোচকদের দৃষ্টিতে, কখনোবা দর্শক জরিপে পুরস্কার পেয়েছেন এখানে। আপনি অনেকবার আয়োজনটি উপস্থাপনাও করেছেন। এখানে উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা কেমন?
 
আমাদের দেশে যেসব পুরস্কার দেওয়া হয়, তার মধ্যে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার একটি চমত্কার পুরস্কার। এই আসরের জন্য দর্শকেরাও মুখিয়ে থাকেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও মুখিয়ে থাকেন। এখানে কাজ করাটা ভালো লাগে।
 
আপনি জালালের গল্প চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন। তখনকার অভিজ্ঞতা আর অনুভূতিটা কেমন?
 
জালালের গল্প চলচ্চিত্রের জন্য একটা পুরস্কার পেয়েছি। আভাঙ্কা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে। এটা পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০০ ছবি দেখানো হয়, সেখানে আমি সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলাম। সে পুরস্কার ভালো লেগেছে আমার। কিন্তু আমার আবার ও রকম হয় না যে আনন্দে আটখানা বা একদম পাগলপ্রায় হয়ে গেলাম! কিংবা ফ্লোরে তিনটা ডিগবাজি দিয়েছি…এটা আমার ভেতরে ঘটে না। আবার পুরস্কার না পেলেও তেমন কোনো অনুভূতি হয় না। আমার আসলে প্রত্যাশা কম।
 
আপনার জীবনের সেরা পুরস্কার কোনটি?
 
একজন পরহেজগার ব্যক্তি, সফেদ দাড়িওয়ালা—উনি এসে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘বাবা, তোমার অভিনয় আমার খুব ভালো লাগে।’ এটা আমার কাছে অনেক বড় পুরস্কার পাওয়ার মতো ছিল। কারণ, এ ধরনের লোকেরা সাধারণত অভিনয় পছন্দ করেন না। ওনার কাছ থেকে এমন কথা শোনা অনেক বড় ব্যাপার। দর্শকদের কাছ থেকে যে এতটা ভালোবাসা পাই, আমি অনেক সময় ভাবি, আমি কি আসলেই এতটা ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য! এই ভালোবাসাটা আসলেই অনেক বড় পুরস্কার। এটা হয়তো দৃশ্যমান না, কোনো একটা পুতুলের মধ্য দিয়ে সেটাকে বেঁধে রাখতে পারছি না। বাট দিস ইজ গ্রেট।
 
এত সফলতার মাঝেও জীবনে কি কোনো আক্ষেপ বা আফসোস রয়ে গেছে?
 
নেতিবাচক ও ইতিবাচক—জীবনে সব অভিজ্ঞতাই আমি ইতিবাচকভাবে নিতে চাই। যদি আফসোস করি, তাহলে আমি রাক্ষস। আমাকে লোকজন ভালোবাসে, ছবি তুলতে চায়, রাস্তায় দেখা হলে খুব পছন্দ করে, কথা বলতে চায়, মিশতে চায়—এই পাওয়াটা আমি মনে করি বড় পাওয়া। আমার কেন আফসোস থাকবে? আফসোস থাকার নয়, কারোরই নয়, আফসোস না থাকাই উচিত।
 
আফসোস একটা রোগ। এ থেকে তোমাকে বেরোতেই হবে। যদি না বের হও, তাহলে সুখী হতে পারবে না। চেয়ো না। চাওয়া থেকে দূরে যাও, জীবনটা সুন্দর হবে। চাইলেই ভেতরে রাক্ষস তৈরি হয়। তোমাকে খামচাতে থাকে আরও চাই, আরও চাই। জীবন আসলে সহজ। জীবনের মধ্যে আমরা অনেক ভেজাল ঢুকিয়ে ফেলি। ওইটা লাগবে, এইটা লাগবে। যেমন : রূপসচেতনতা। আমি তো নিজেও বলি—যদি ওর মতো হতাম! এগুলো সব রোগ! এই রোগগুলো ভেতরে ঢোকানো ঠিক নয়। সব রূপেই রূপ আছে এবং তার জন্য চোখ লাগে। চাওয়ার দুটি ধরন আছে—একটা রাক্ষসের চাওয়া, আরেকটা সাধকের চাওয়া। সাধকের চাওয়া হচ্ছে—হি ইজ নট ক্রেজি। আমি অমুকটা চাই বা অমুককে চাই—আই উইল নট বি ক্রেজি। ক্রেজি হলেই আমি রাক্ষস হয়ে যাব। আমি তাকে চাইতে গিয়ে স্টুপিড হয়ে না যাই। আমি চাইতে থাকব আমার মতো করে, তাকে বিরক্ত না করে। সেটা হচ্ছে সাধক। চাওয়া তো কোনোটাই খারাপ নয়! লালনের গানেই তো আছে ‘চাতক থাকে মেঘের আশে, মেঘ বরিষণ অন্য দেশে’। মেঘ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, চাতক ওই মেঘেরই আশায় আছে এবং ও ওই পানি ছাড়া খাবে না। লক্ষ্য স্থির রাখা তাহলে একসময় তা পাওয়া যায়। শিল্পীও পান। শিল্পীকেও চাইতে হবে তেমন করে, উন্মাদের মতো নয়, কাড়াকাড়ি করে নয়।
 
জলাবদ্ধতা, আবর্জনা, জ্যাম, গরমসহ নানা সমস্যার পরও ঢাকা আমাদের প্রিয় শহর। এক দিনের জন্য এই শহরের মেয়র হলে কী কী করতেন?
 
আমি মেয়র হলে খুব একটা কিছু করতে পারতাম বলে মনে হয় না। মানুষ হিসেবে আমি খুব একটা গোছানো না। তবে আমার একটা জিনিস আছে যে আমি যখন কোনো কাজের মধ্যে ঢুকি, তাহলে সেটা আমি ঠিকঠাকমতো করি। আমি যা করতে পারব, সেটাই হচ্ছে বাস্তব। স্বপ্ন হয়ই—প্রায়ই মালয়েশিয়ায় যাওয়া হয়। দেখি সবাই বাঙালি। বাঙালিরাই রাস্তায় কাজ করছে। সেখান থেকে আমার কিছু ভাবনাও আসে, ভেবেছিলাম ভাবনাগুলো নিয়ে কারও সঙ্গে কথাও বলব যে আমাদের শহরটা কেন এমন হতে পারছে না। বাংলাদেশের মানুষেরাই তো এই জায়গা পরিষ্কার রেখেছে। এ জায়গায় ইমারত গড়েছে, মালয়েশিয়াকে নাকি সুন্দর করেছে বাঙালিরা। মনে হয়, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করি, কী করলে আমার শহরও সুন্দর হবে। আমি তো সেই চেষ্টা করতামই, সুন্দর করার চেষ্টা। সুন্দর করার চেষ্টা চলছে তো। সবার সচেতনতা জরুরি।
 
আপনি রামগরুড়ের ছানা চেনেন? তাদের কিন্তু হাসতে মানা। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনি তাদের কবজায়। তারা বলছে, আপনার হাসির নাটক দেখে তারা না হেসে পারছে না। তাই আপনাকে অভিনয় বন্ধ করতে হবে। কী করবেন?
 
যে অভিনয় রামগরুড়ের ছানাকেও বদলে দেয়, সেই অভিনয় তো ছাড়ব না।
 
অভিনয়, নাচ, গান এসবকে এখনো অনেকেই খারাপ চোখে দেখে। যারা এসব করে, তারা বিপথে যায় বলে মনে করে। তাদের উদ্দেশে আপনার কী বলার আছে?
 
আমার একটা কথা আছে—আমি কারও সমস্যা করেছি কি না, সেটা আগে দেখতে হবে। যারা এমনটা ভাবে, তাদের কথা তো পরে। তাদের উপদেশ দেওয়া নিয়ে আমি এত চিন্তিত নই।
 
যে কিশোরেরা আপনার মতো অভিনয়শিল্পী হতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ কী?
 
নিজেকে বোঝা। অভিনয় বিষয়টা ওর মধ্যে আছে কি না। যদি না থাকে, তাহলে এদিকে আসার দরকারও নেই। আর যদি থাকে তাহলে পরিচর্যা করতে হবে।
 
নির্বাচিত পাঁচজন ছাড়াও আরও যাদের প্রশ্ন নির্বাচিত হয়েছে—অরুনাভ চক্রবর্তী, আইভি সুলতানা, আফরিন হোসেন, আশফাক নাসিফ, আহমেদ আতিফ আবরার, আহসান সাদাফ, ইফাদ হাসান, ইব্রাহিম সৈকত, ইসতিয়াক জামান, উম্মে হুমায়রা, এ কে এম শাহনেওয়াজ, কেয়ামনি চাকমা, খাতুনে জান্নাত, চৈতী বাকিচ, জান্নাতুত্ তাহসিন, জারিন তাসনিম, জুবায়ের ইবনে কামাল, জোবায়ের আল মারুফ, তানভীর আহমেদ, তাসনিম ইসলাম, তাসফিয়া আমিন, তাসফিয়া তাবাসসুম, তালহা চৌধুরী, তাহমিদ ইসলাম খান, তৌসিফুল ইসলাম, নওরিন আক্তার, নওশীন সালসাবিল, নাবিল হোসেন, নুহিয়াতুল ইসলাম, ফারহান সাদিক, মালিহা মীম, মাহমুদুল আলম, মুকাররামা আবতাহী, মুসাব্বির রিফাত, রাইদা জামান, রাফি আহমেদ, রাবেয়া হোসেন, রূপকথা দাশ গুপ্ত, রেহানা ইসলাম, শফিউল আলম, শরীফ জাহান, শ্রাবণী সরকার, শাকিফ খান, সবুর খান, সাইয়ারা কবির, সাগর মল্লিক, সাজিয়া আফরীন, সাদিকা ইসলাম, সুতপা সুহূদ, সানজানুর রহমান, সাব্বির রহমান ও সুমাইয়া সাইমা।
Facebook Comments Box


Posted ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

“অমর মুজিব“
“অমর মুজিব“

(1814 বার পঠিত)

মধ্যেবিত্ত
মধ্যেবিত্ত

(884 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

কুষ্টিয়া চোরহাস মোড়, কুষ্টিয়া
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮
ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!