বৃহস্পতিবার | ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

বাংলাদেশের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময় রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের ভূমিকা ।

বাংলাদেশের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময় রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের ভূমিকা ।

বাংলাদেশের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময়
রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের ভূমিকা ।


পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশর ) উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞের জন্য সারা বিশ্ব জাতিংসংঘের অবহেলা ও নিস্পৃহতা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হবার পর , ৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ওয়াশিংটনে হেনরি কিসিঞ্জার নিরাপত্তা পরিষদের আহূত অধিবেশনে যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত মার্কিন প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি উঠে ।নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্য স্ব স্ব সীমান্তের ভিতরে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ক্ষমতা প্রদান করার জন্য এক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কিছুই করার নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালে রিপাবলিকান দলটি প্রেসিডেন্ট তখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিলেন , সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রধানতম মিত্র এবং যুদ্ধ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও বস্তুগত – উভয়ভাবেই সহায়তা করে।

পাকিস্তানের অবশ্যম্ভাবী পরাজয় আঁচ করতে পেরে নিক্সন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপ্তম নৌবহর ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকে বঙ্গোপসাগরে মোতায়ন করে, যা ভারতীয়রা নিউক্লিয়ার যুদ্ধ শুরু করার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে। এন্টারপ্রাইজ ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর গন্তব্যে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির জবাব হিসেবে সোভিয়েত নৌবাহিনী ৬ ও ১৩ ডিসেম্বর নিউক্লিয়ার মিসাইলবাহী দুটি ডুবোজাহাজ ভ্লাডিভোস্টক থেকে বঙ্গোপসাগরে প্রেরণ করে; যারা ইউএস টাস্ক ফোর্স ৭৪কে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে তাড়া করে বেড়ায়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ১২ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের আরেকটি অধিবেশনের আহ্বান জানায়। তবে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবার এবং এতে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় ।
আর ঠিক সে সময়ই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সসনের সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।


সে সময় সরকারি চাপ উপেক্ষা করে সিনেটে পাকিস্তানি হানাদার বাহীনির গণহত্যার কথা তুলে ধরেন ক্লিনটন, ওবামা, জো বাইডেনের পূর্বসূরীরাই।
সেই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ছোট ভাই টেড কেনেডি সে সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নেন । সেই দুঃসময়ে গণহত্যা রোধ করা, পাকিস্তানকে মার্কিন সহায়তা বন্ধে সরাসরি মার্কিন প্রশাসন বিরোধী সাহসী অবস্থান নেন এই ডেমোক্রেট নেতা। এছাড়া শরণার্থীদের দুর্দশা দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। দেশে ফিরে প্রায় ৯ লাখ শরণার্থীর মানবেতর জীবনযাপন সম্পর্কে এক মর্মস্পর্শী প্রতিবেদন জমা দেন সিনেটে৷ শুধু প্রতিবেদন জমা দিয়ে থেমে থাকেননি কেনেডি পরিবারের ছোট ছেলে। শরণার্থীদের প্রতি বিশ্ব সভার দৃষ্টি আকর্ষণ, তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহেও ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সফরেও এসেছিলেন এডওয়ার্ড কেনেডি। সেই থেকে ডেমোক্রেটিক দলটি বাংলাদেশীদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে ।


মো: আসাদুজ্জামান
কমিউনিটি এক্টিভিস্ট
নিউইয়র্ক ।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৩৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

কুষ্টিয়া চোরহাস মোড়, কুষ্টিয়া
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮
ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!