মোসলেম উদ্দিন, হিলি দিনাজপুর।
খাদ্য শস্যের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জনপদ দিনাজপুর জেলা। এই জেলার প্রতিটি উপজেলা সারা বছর কম বেশি নানা রকম সবজি চাষ করে থাকেন এখানকার কৃষকরা। এমনি একজন কৃষক জেলার ঘোড়াঘাটের পাঠশাও গ্রামের সাজু মিয়া। তিনি ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ বিঘা জমিতে লাভের আশায় লকুজের (লাউ) ঝাংলা দিয়েছেন। আগামী ৬ মাস যাবৎ ফল পাবে, প্রায় দেড় লাখ টাকার লকুজ (লাউ) বিক্রি করতে পারবে বলে আশা করছেন সাজু মিয়া।
হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে উসমানপুরের পাঠশাও এলাকায় তিন বিঘা জমির উপরে তৈরি হয়েছে লকুজের ঝাংলা। প্রায় ৬০০ বাঁশের খুঁটিতে লাইলন সুতা আর জিয়া তার দ্বারা ৬০০ লকুজের (লাউ) চারায় ঝাংলাটি তৈরি। প্রথমে জৈব, ইউরিয়া, পাটাস সার দিয়ে জমি তৈরি করা হয়েছে। বীজ বপনের দুই মাসের মধ্যে লাতা-পাতা আর ফুলে-ফলে ঝাংলা ভরে উঠেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লাউ নামানো শুরু হবে। সপ্তাহে ৩ বার জাংলা থেকে পাড়তে হবে। প্রতিবার ৮০০ থেকে ১০০০ পিস লাউ এই ঝাংলা থেকে পারতে পারবে বলে আশা করে লকুজ চাষীরা।হিলি-ঘোড়াঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি লকুজ ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
লকুজ চাষী সাজু মিয়া বলেন, আমার নিজেস্ব কোন জমি নেই। মানুষের জমি আদি নিয়ে এই লকুজের চাষ করেছি। গতবার অন্য আর এক জায়গায় দুই বিঘা জমিতে লকুজের চাষ করেছিলাম। তা থেকে গতবার প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হয়ে ছিলো। এইবারও আমি এখানে তিন বিঘা জমি আদি নিয়ে লকুজের ঝাংলা দিয়েছি। ঝাংলাই প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, আশা করছি আগামী ৬ মাসে দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করবো।
তিনি আরও বলে মানুষের জমি আদি-বারি ছাড়াও বাড়িতে ছোট-খাটো একটা গরুর খামার আছে। তাতে ৬ থেকে ৭ টি গরু পালন করি। এক একটা গরু হাট থেকে কিনে দুই থেকে আড়াই মাস বাড়িতে লালন-পালন। পরে তা মোটা তাজা করে বাজারে বিক্রি করে যা আয় আসে তা দিয়ে ছেলে সন্তান নিয়ে ভালভাবে চলি।
এবিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার এখলাছ আহম্মেদ সরকার জানান, এইবার উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে লকুজের চাষ করছে কৃষকরা। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ মণ লকুজ (লাউ) উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতিটি লাউয়ের ঝাংলাই এইবার ভাল ফলন হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত লকুজের ঝাংলাগুলো পরিদর্শন করছি এবং কৃষকদের তা সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।
Posted ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২০
protidinerkushtia.com | editor