শুক্রবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ



সত্যের পথে অবিচল | ২৪ ঘণ্টা বাংলা সংবাদ

হিলিতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

হিলিতে আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

মোসলেম উদ্দিন, হিলি দিনাজপুর:- দিনাজপুরের হিলিতে চারা রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আমন চাষীরা। বোরো ধানের দাম বেশি পাওয়ায় আমন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে আমন চাষীরা।


দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, জেলার ১৩ টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২লাখ ৬০ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গেলো বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর।

বিভিন্ন জেলায় বর্ষার পানিতে প্লাবিত হলেও দিনাজপুরে বর্ষার পানি তেমন উঠেনি। তবে জমিতে যে পরিমাণ পানি জমা হয়েছে তা আমন চাষের জন্য উপযোগী।তিনি আরও জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমন চাষীদের পাশে আছে। তারা প্রতিনিয়ত চাষীদের পরামর্শ এবং সেবা দিচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় মাঠে আমন চাষের জন্য জমি তৈরি করে চারা রোপন শুরু করেছে কৃষকরা। গত বোরো ধানের ক্ষেতে পর্যাপ্ত গোবর সার দেওয়ায়, আমন চাষে গোবরের প্রয়োজন হয় না। আমন চাষে এক বিঘায় ১ বস্তা টিএসপি,১ বস্তা পটাস ও ১ বস্তা জিব সার দিয়ে জমি তৈরি করছেন তারা। চারা রোপনের ২০ থেকে ২২ দিন পর ইউরিয়া সারে দানাদার কীটনাশক আমন ক্ষেতে প্রয়োগ করতে হয়। এক বিঘা জমিতে আমন চাষে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ আমন চাষীদের। চারা রোপনের চার থেকে সাড়ে চার মাসের মধ্যে আমন ধান ঘরে তুলতে পারবে ধানচাষীরা।


ঘোড়াঘাটের ওসমানপুরের পাটশাও গ্রামের আমনচাষী শাফিরুল ইসলাম বলেন, এবার আমি তিন বিঘা জমিতে আমন চাষ করছি। গত ইরি ধানের দাম ভাল পেয়েছি। এখন বর্ষাকাল, জমিতে প্রচুর পানি রয়েছে। বাড়তি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। টিএসপি, পটাস ও জিব সার দিয়ে জমি তৈরি করে, আদিবাসী চার জন নারী শ্রমিক দিয়ে চারা রোপন করছি। আকাশ ভাল থাকলে বোরো ধানের মতো আমন ধানও ভাল পাবো।

ধানচাষী হাকিমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন জানান, দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আমাদের দিনাজপুর জেলায় এখনও বন্যায় কোন এলাকা প্লাবিত হয়নি। মাঠে-ঘাটে যে পরিমাণ বর্ষার পানি জমা হয়েছে। তাতে করে আমন চাষে সুবিধা হবে। চারা রোপনের জন্য যথেষ্ট পানি ক্ষেতে রয়েছে। এইবার আমি প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে আমন চাষ করছি। চারা রোপনের জন্য সব জমি তৈরি করেছি এবং প্রায় জমিতে চারা লাগানো শেষ হয়েছে।


হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন জানান, চলতি মৌসুমে এইবার উপজেলায় ৮১০৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করছে কৃষকেরা। বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭২৩০ হেক্টর জমি। বর্ষাকালে আমন চাষ হয়ে থাকে। অন্যান্য এলাকার মতো এই এলাকায় বন্যার পানি তেমন উঠেনি। যে পরিমাণ পানি মাঠে রয়েছে, তাতে করে আমন চাষে উপযোগী। আবহাওয়া ভাল থাকলে আশানুরুপ আমন ধান ঘরে তুলতে পারবে ধান চাষীরা।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এখলাছ হোসেন সরকার জানান, ঘোড়াঘাট উপজেলায় এবার মোট ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে। গত বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ হাজার ৫০ হেক্টর। মাঠে তেমন বর্ষার পানি জমা হয়নি।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শ্রী নিক্সন চন্দ্র পাল জানান, বোরো ধানের দাম ভাল পাওয়ায় উপজেলার ধান চাষীরা আমন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এইবার বিরামপুর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষে জন্য চারা রোপন করছেন কৃষকরা। বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৬ হাজার ৯৫ হেক্টর।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০

protidinerkushtia.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :

কুষ্টিয়া চোরহাস মোড়, কুষ্টিয়া
ফোনঃ +৮৮ ০১৭৬৩-৮৪৩৫৮৮
ই-মেইল: protidinarkushtia@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকৃত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
error: Content is protected !!