ঘটনাটা বেশি দিন আগের নয়। মাত্র দুই বছর হয়েছে। ক্লাস এইটে পড়ি তখন। ইংরেজি ক্লাস চলছে। যারা বই আনেনি, তাদের দাঁড়াতে বলেছেন স্যার।
সাধারণত যে বইটা আনতে হবে, আগের ক্লাসেই স্যার বলে দেন সেই বইটা আনার কথা। আমি গত ক্লাসে আসিনি। আমাদের স্কুলে বোর্ডের বইয়ের পাশাপাশি আরেকটা বই আনতে হয়। বইটার নাম ‘অ্যাডভান্সড লার্নারস’। আমি ‘অ্যাডভান্সড লার্নারস’ এনেছি। কিন্তু পাঠ্যবইটা । ব্যাগে নেই, আনিনি মনে হয়।
স্যারকে ওই কথা জানালাম। স্যার শুনলেন না। দাঁড়াতে বললেন আমাকে। ক্লাসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। মন খারাপ লাগছে। বিনা দোষে শাস্তি পেতে হলো। আগের ক্লাসে এলে এ রকম হতো না।
হঠাৎ আমার একমাত্র বন্ধু সাজিদ বলল, ‘স্যার, রাফিদ তো বই এনেছে। আমি বই আনিনি। এই যে ওর বই।’ সাজিদ স্যারকে বইটা দেখাতেই চমকে উঠলেন স্যার। বইটা হাতে নিয়ে আমার কাছে এসে সাজিদ বলল, ‘তুই যা, গিয়ে বস। তোর শাস্তি পাওয়া লাগবে না।’
এই পরিস্থিতিতে অস্বস্তি অনুভব করলাম আমি। দ্রুত গিয়ে বসলাম নিজের বেঞ্চে। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।
এই অপরাধের জন্য সাজিদকে কঠিনভাবে মারলেন স্যার। বললেন, ‘তুমি ওর বই নিয়েছ আবার এতক্ষণ দাঁড়াওনি, প্রতারক!’
ক্লাসের কয়েকটা নিষ্ঠুর ছেলে সাজিদের অসহায়তা দেখে হেসে উঠল। যেন সাজিদ মার খেলে তারা বড্ড খুশি। আমার খুব মন খারাপ হলো। আনমনে সাজিদের দেওয়া বইটা খুললাম। এর পরের ঘটনাটা বিশ্বাস করতে পারলাম না আমি। বইটাতে সাজিদের নাম লেখা। আমি আসলেই বই আনিনি। আমাকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য এই কাজ করেছে সাজিদ। সাজিদের জন্য খুব কষ্ট হলো আমা। অন্তর থেকেই দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। আহ্, ছেলেটা এত ভালো।
ক্লাস শেষে সাজিদের কাছে ছুটে গেলাম আমি। বললাম, ‘এটা তো তোর বই। তুই অকারণে শাস্তি পেতে গেলি কেন?’
‘তুই আনিস নাই, স্যার তোর প্রতি অন্যায় করতেন। তাই দাঁড়িয়েছি।’
সাজিদ আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।