
দেশে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমনে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গত সোমবার (২৮ জুন) থেকে সাত দিনের জন্য সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’জারির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব,সেনাবাহিনী ও বিজিবি। সরকারের বিধি-নিষেধ অমান্য করে অযথা ঘর থেকে বের হলে রয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। সেই সাথে জরিমানার জন্য মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একদিকে পুলিশ ধরছে অন্যদিকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করছে যার বেশিরভাগই দিনমজুর ও কর্মজীবী মানুষ।
রাজধানীর শনির আখড়ায় দেখা যায়, কোদাল, টুকরি আর শাবল নিয়ে বসে আছে শতাধিক দিন মুজুর। উদ্দেশ্য সারাদিন কায়িকশ্রমের ফলে জীবন জীবীকার জন্য কিছু পয়সার উপার্জন। যা তাদের ক্ষুধার্ত পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাতের জন্য। আর এসব দিনমজুরের বেশীর ভাগের বাড়ি উত্তরবঙ্গের মঙ্গা এলাকায়।
সাংবাদিক শুনে কাছে আসে জমশের নামে এক শ্রমিক। অঝোরে অশ্রুসিক্ত দুচোখ নিয়ে ভাঙা কন্ঠে তিনি বলছেন সরকারকে বলেন লকডাউন তুলে দিতে। এলাকায় কোন কাজ না থাকায় ঢাকায় এসেছি বেঁচে থাকার আসায়। বাড়িতে বৃদ্ধ মা, ছোট ছোট ছেলে মেয়ে না খেয়ে আছে। প্রতিদিন কাজ করে যে টাকা পাই, সেই টাকা বাড়ি পাঠাই। আজ কাজ নেই একদিকে লকডাউন অন্যদিকে বৃষ্টি।
এসময় কয়েকজন শ্রমিক এসে একাত্তরকে বলেন, আপনার একটু লিখেন আমরা বাঁচার জন্য রাস্তায় নেমেছি গাড়ি বাড়ির জন্য না। হাসান নামে একজন বলেন, তিনি পরিবহন শ্রমিক। গাড়ি না চলায় অন্য কাজের জন্য যাত্রাবাড়ী থেকে এসেছেন। মাস্ক না থাকায় ৫০ টাকা জরিমানা দিয়েছেন।
এদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাস্ক না পরায় ৪৪ জন পথচারীকে বিভিন্ন অংকে অর্থদন্ড দিয়েছেন র্যাবের ভ্র্যামমান আদালত। ভ্রাম্যমাণ এ আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আক্তারুজ্জামান। তিনি একাত্তরকে জানান, সরকারের নির্দেশ অমান্য করে মানুষের জীবন বিপন্নকারী রোগের সংক্রমণে বিস্তারে সহয়তা করায় দন্ডবিধি ২৬৯ কার্যধারা ৪৪ জনকে বিভিন্ন অর্থদন্ড করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, লকডাউনের নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে লকডাউনে বের হওয়ায় পুলিশের ওয়ারী বিভাগের ৬ টি থানায় মোট ১০৬ জনকে গ্রেফতার ও ২৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকে অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
ওয়ারী বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ একাত্তরকে জানান, এই লকডাউন সফল করতে সরকারের সকল নির্দেশ অনুযায়ী মাঠে রয়েছে পুলিশ। সেই সাথে তিনি সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন।কেউ বিধি নিষেধ অমান্য করলে কঠোর আইননানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।